ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে রুবেল খান (৩৫) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর বিষ্ণুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে ‘হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু’ হয়েছে বলে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত রুবেল খান ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস খানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার দুই দিন আগে রুবেল খানের প্রথম স্ত্রীর বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় রুবেলের শ্বশুর তার বাবা ইলিয়াস খানকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আত্মহত্যার দিন শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রুবেল তার দ্বিতীয় স্ত্রীর (ছোট বউ) বাড়ি আকটেরচর ইউনিয়নের চোকদার বাজার সংলগ্ন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার শশুর মান্নান মোল্লার কাছে মাছ বিক্রির প্রায় দুই লাখ টাকা তার কাছে ছিল বলে জানা গেছে। ওই টাকা নিয়ে শশুর ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলেও শুনা গেছে। পরে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে যেকোনো সময় নিজ বাড়ির চৌচালা টিনের ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তার মা রোকেয়া বেগম (৫৭) ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিপি বেগম তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে চিকিৎসকদের কাছে জানানো হয় যে রুবেল খান ‘হার্ট অ্যাটাক’ করে মারা গেছেন। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এবং প্রকৃত ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সদরপুর থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।