জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সারাদেশে চালু হচ্ছে এআই-ভিত্তিক বিশেষ সিস্টেম ‘এআই-ক্রপ গার্ডিয়ান’।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রযুক্তি কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিস্টেমটি সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে অন্তত ১৫ দিন আগেই পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকার ফসল ক্ষতির ঝুঁকি শনাক্ত করে আগাম সতর্কতা জারি করা হবে, যাতে কৃষকরা সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এআই-ক্রপ গার্ডিয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ। স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের জমির মাটির আর্দ্রতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে, যা একদিকে উৎপাদন বাড়াবে, অন্যদিকে খরচ কমাতে সহায়তা করবে।
পোকামাকড় দমনে যুক্ত করা হয়েছে এআই নিয়ন্ত্রিত ড্রোন প্রযুক্তি। ফসলের আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করবে। এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস পাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রযুক্তিটির কার্যকর প্রয়োগে ফসলের অপচয় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। সরকার ইতোমধ্যে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে তারা সহজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন।
এ বিষয়ে কৃষি সচিব বলেন,
“এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং কৃষকদের টিকে থাকার সংগ্রামে একটি কার্যকর হাতিয়ার। ২০২৬ সাল বাংলাদেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার বছর হয়ে উঠবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই-ক্রপ গার্ডিয়ান সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাতে একটি টেকসই, আধুনিক এবং স্মার্ট ব্যবস্থাপনার ভিত্তি তৈরি হবে।