
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ঘটে যাওয়া কামরুন্নাহার কলি নামের দশ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ছাত্রীকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে জীবন কেড়ে নেওয়া হয়, যা এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই পৈশাচিক ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা প্রামাণিককে পুলিশি হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, শিশু কলিকে ধর্ষণের মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকানোর জন্য এই দ্রুত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে, যা মামলার তদন্ত কার্যক্রমে নতুন মোড় নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তফা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছিল এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটেরও অপচেষ্টা চালায়। তার এই লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিতে হতবাক হয়েছেন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারাও। এই নির্মমতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুর পরিবারসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
এজাহারভুক্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তা হীনতা কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে প্রাপ্ত এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এই মামলার চার্জশিট আদালতে পেশ করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।