
সাম্প্রতিক সময়ে দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের কারণে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেট সামলানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর সোমবার থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নাগরিকদের এই ক্রমাগত হিমশিম খাওয়ার পরিস্থিতি অর্থনীতিতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই উল্লম্ফন কেবল ব্যক্তিগত যাতায়াত খরচই বাড়ায়নি, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি সুদূরপ্রসা গী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ডিজেল ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন খরচ রাতারাতি অনেকখানি বেড়ে গেছে। ফলস্বরূপ, রাজধানীসহ দেশের সব বাজারে সব ধরনের শাকসবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো খাদ্যপণ্যের দাম আরও চড়ার দিকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, আয়ের বড় অংশ যদি কেবল জ্বালানি আর শক্তির পেছনেই চলে যায়, তবে তারা সংসার চালাবেন কীভাবে।
বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সরকারের এই আকস্মিক ও বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম এভাবে হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়ায় দেশের কৃষি খাত এবং শিল্প উৎপাদন চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। সেচ পাম্প থেকে শুরু করে কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে উদ্যোক্তাদের। এই বর্ধিত উৎপাদন খরচ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত চরম মূল্যস্ফীতির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদেরই।
বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও বেশি অসহনীয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।