
অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা গণনায় এক ঐতিহাসিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের পূর্বাভাস সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, আগামী কয়েক দশকে এই দ্বীপ মহাদেশের ডেমোগ্রাফিক চিত্রে বড় ধরণের রূপান্তর ঘটবে। জন্মহার ক্রমান্বয়ে হ্রাসের ফলে দেশটিতে প্রজনন হারের চেয়ে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার সমাজব্যবষ্টায় জনমিতির এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ২০৬০-এর দশকের কোনো এক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মহারকে পেছনে ফেলে মৃত্যুহার শীর্ষে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট বছরে দেশটিতে যত সংখ্যক শিশুর জন্ম হবে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটবে। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে কদাচিৎ বা কখনো ঘটেনি, যা মূলত প্রাকৃতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘমেয়াদী জনমিতিক মডেল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই কর্তৃপক্ষ এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
এই ধরনের পরিবর্তনের পেছনে মূলত উন্নত জীবনযাত্রা, দীর্ঘায়ু এবং জন্মহারের ধারাবাহিক পতনকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আধুনিক সমাজে মানুষের সন্তান জন্মদানের হার কমে যাওয়া এবং একই সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বয়স্কদের অনুপাত সামগ্রিক জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। ফলে সমাজে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি নির্ভরশীল প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভবিষ্যতের এই জনমিতিক সংকট মোকাবেলার জন্য দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা এখন থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন। জন্মহার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা এবং দক্ষ অভিবাসী আকর্ষণের মাধ্যমে এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সতর্ক করেছে।