
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সুরক্ষায় বড় ধরনের সামরিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশটিকে আকাশপথে প্রতিরক্ষামূলক জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। মূলত সৌদি আরবের আকাশসীমা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরোক্ষ সমর্থনে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ড্রাগ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিক আক্রমণ শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই হুমকিস্বরূপ নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই সামরিক সহায়তাটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং এর মূল উদ্দেশ্য কোনো নতুন সংঘাত উসকে দেওয়া নয়। বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং মিত্র দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্য এই ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা সাময়িকভাবে আরও জোরদার হবে।
এর আগে ব্রিটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইয়েমেন সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে বন্ধুভাবাপন্ন দেশের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলতে থাকায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই নতুন রূপরেখা সামনে আনতে বাধ্য হয়েছে লন্ডন। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর ফলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।