
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদ থেকে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ও সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর রাতে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্য ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন, যার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং তাঁর আমলে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাই কোনো ধরনের অযৌক্তিক বা হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হলে তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসছে, ততক্ষণ তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাতে হঠাৎ এমন নজিরবিহীন ছাত্রবিক্ষোভের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এবং স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে কোনো সমঝোতার বার্তা পাওয়া যায়নি। এই আকস্মিক পদ পরিবর্তন সংক্রান্ত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত কোনো প্রশাসনিক সংলাপ বা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসলে ক্যাম্পাসের অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।