
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রসাধনী পণ্যের লেবেলিং ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের বাজারে প্রচলিত সাবান, শ্যাম্পু এবং টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী সামগ্রীর প্যাকেটজাতকরণের নিয়মে সম্প্রতি নতুন বিধিমালা জারি করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ভোক্তাদের আরও বেশি সচেতন করা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্যের মোড়কে সুনির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে সংশ্লিষ্ট পণ্যটি তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলো উদ্ভিদভিত্তিক অর্থাৎ নিরামিষজাত কি না। এতদিন সাধারণত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই ধরনের নিরামিষ বা আমিষের চিহ্ন বাধ্যতামূলক ছিল, যা এবার প্রসাধনী খাতের জন্যেও সম্প্রসারিত করা হলো।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপে ভোক্তাসাধারণের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ অনেকেই প্রসাধন নির্বাচনে পশুজাত উপাদান এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে তা সবসময় যাচাই করা সম্ভব হতো না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ক্রেতারা কোনো পণ্যের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট লোগো দেখেই নিশ্চিত হতে পারবেন সেটি তাদের জীবনধারা বা পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই নতুন বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে ভারতের কসমেটিকস বাজারে এক ধরনের বড় পরিবর্তন আসবে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বর্তমান প্যাকেজিং ডিজাইন পরিবর্তন করতে হবে এবং সরকারের বেধে দেওয়া মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।