
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের নাম জানা যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী বলেন, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে জামায়াত–শিবির পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় আমি ও আমার গাড়িচালক আহত হই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।