
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষকরা। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে যেখানে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রতিদিন যাতায়াতে প্রায় ৩০০ টাকা ব্যয় করতে হতো, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ টাকায়। ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় শিক্ষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
অভিযোগ রয়েছে, বাজারে প্রকাশ্যে তেলের দোকান বন্ধ রাখা হলেও গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। চরাঞ্চলে প্রতি লিটার তেল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরভদ্রাসনের চর হরিরামপুর ও চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের একাধিক শিক্ষক বলেন, “আমাদের বেতন সীমিত, কিন্তু খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রতিদিন যাতায়াত করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাজারে নজরদারি জোরদার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক, ট্রলার চালকসহ এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, তেলের বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষকরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন।
চরাঞ্চলের শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের এই দুর্দশা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।