1. info@www.choice24.tv : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.choice24.tv : TV :
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরের ভাষার সৈনিকদের ইতিহাস অজানা নতুন প্রজন্মের কাছে 

মোঃ নুরুল ইসলাম, ফরিদপুর:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সালাম, বরকত, রফিক জব্বারের বাইরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিজ জেলার বীরত্বগাথা ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে কয়জন ই বা জানে? ভাষা সৈনিক হিসাবে শহরের দু-চারটি রাস্তার নামকরণ আর ফরিদপুর মিউজিয়ামে ছবির ফ্রেমে আটকে আছে তাদের স্মৃতি চিহ্ন। নতুন প্রজন্মের কাছে এই বীর কেবলই ছবি মাত্র। এদের মহান ত্যাগের, কর্মের কথা কজন জানে?

ফরিদপুর জেলায় ভাষা আন্দোলনে বেশ কয়েকজনের অবদানের কথা শোনা যায়। এদের মধ্যে ফরিদপুর শহরের সন্তান ডা: মোহাম্মদ জাহেদ ১৯৪৮ সালে জানুয়ারী মাসে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র। ১৯৫২-৫৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসাবে বিশ^বিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সদস্যও ছিলেন তিনি।

 

১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেলের এমবিবিএস এর ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর আরেক সন্তান ডা: ননী গোপাল সাহা। ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রাঙ্গনে আমতলায় ছাত্র-জনতার সভায় যোগ দেন তিনি এবং পরে মিছিলে সামিল হন। সেদিনের সেই মিছিলেই পুলিশের গুলিবর্ষন হয়।

 

এছাড়াও ৫২’র সেই ভাষা আন্দোলনে শহীদ বরকত এর মৃত্যুর স্বচক্ষের স্বাক্ষী এ্যাডভোটেক এ.কে.এম. শামসুল বারী(মিয়া মোহন)। মিছিলের উপর গুলিতে বরকত যখন পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছটফট করছিলেন, তখন তিনি নিজে আহত হওয়া সত্ত্বেও কাঁধে করে বরকত কে মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেবার আন্দোলন করে গেছেন জেলার এই কৃতি সন্তানরা।

 

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের মধ্যে ডা: মোহম্মদ জাহেদ, অধ্যাপক আবদুল গফুর, ডা: ননী গোপাল সাহা, একেএম সামসুল বারী মিয়া মোহন, মহিউদ্দিন আহমেদ, ইমাম উদ্দিন আহম্মেদ, রওশন জামাল খান, এজহারুল হক সুর্র্য মিয়া, মহীউদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন, সামসুদ্দিন মোল্যা, মনোয়ার হোসেন, এস.এম. নুরুন্নবীদের নাম শোনা যায়।

ভাষা সৈনিক সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন এর সন্তান সাজ্জাদ হোসেন রনি বলেন, মায়ের ভাষা বাংলার দাবীতে যারা যেখানে অবদান রেখেছিল তাদের স্মরণ করতে চাই ফরিদপুরবাসী। এজন্য জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্থানীয় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিফলক নির্মান, একুশের বইমেলায় একটি স্টলে ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিগাথা সেই গল্প তুলে ধরা যেতে পারে। নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তাদের অবদান কে শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধারার দাবী সচেতন মহলসহ নতুন প্রজন্মের।

নতুন প্রজন্মের মেয়ে আবিদা আফরিন মৌমি বলেন, ভাষা সৈনিকদের নামে শুধু সড়কের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল কলেজে পাঠ বইয়ের বাইরেও তাদের নিয়ে আলোচনা, চিত্রাংকন, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগীতাসহ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ এবং হোস্টেল গুলোর নাম করণ করা যেতে পারে। তাহলেই তাদের অবদান ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে বেঁচে থাকবে। বিশেষ করে জেলার স্কুলগুলোতে এই ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস উপস্থাপন করা উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
স্বত্ব: চৌকস মাল্টিমিডিয়া (লাইসেন্স নং-সি-২০৫৭১৫/২০২৫)  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © choice24.tv    
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট