
রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন নেতাকর্মীকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নগরীর নতুন বিলসিমলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের রাজপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি চাঁন সওদাগর এবং তার দুই সহযোগী মুরাদ ও বিদ্যুৎ।
পুলিশ জানায়, চাঁন সওদাগরের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রাজপাড়া থানায় ১২টি, বোয়ালিয়া থানায় ছয়টি এবং শাহ মখদুম থানায় একটি মামলা রয়েছে।
রাজপাড়া থানার ওসি আব্দুল মালেক জানান, চাঁন সওদাগরের বাড়ি পবা উপজেলার নওদাবিল গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রউফ। তিনি বর্তমানে নগরীর নতুন বিলসিমলা এলাকায় বসবাস করতেন এবং এলাকায় জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চাইনিজ কুড়াল, রামদা ও ছোরাসহ একাধিক ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
এদিকে, রাজশাহী মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় মেট্রোপলিটন এলাকায় আরও ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মামুন রয়েছেন। পঞ্চবটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাকি গ্রেপ্তারদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাতজন, মাদক মামলার আসামি একজন এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৭ জন রয়েছেন।