
দেশের তরুণদের সাইবার নিরাপত্তা খাতের দক্ষতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে অনলাইনে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই জটিল ও সম্ভাবনাময় খাতে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করতেই মূলত এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। বিসিএস সিটিএফ ২০২৬ নামের এই প্রতিযোগিতায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহী দলগুলো অনলাইনে অংশ নিতে পারবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞ বিসিএসের বিশেষ সদস্যরা। বিশ্বমানের এই সাইবার প্রতিযোগিতাটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সিটিএফটাইম প্ল্যাটফর্মেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশি ও বিদেশি উভয় ক্যাটাগরির প্রতিযোগীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার ও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ হ্যাকার ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া শীর্ষ ১০টি দলকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিসিএস আইসিটি ফেস্ট ২০৬ এ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। এই দলগুলোর জন্য ৪০০ মার্কিন ডলার মূল্যের বিনা মূল্যের এন্ট্রি টিকিট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী সেরা ৫০টি দলও একই আইসিটি ফেস্টে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে যোগদানের সুযোগ লাভ করবে। অন্যদিকে, জাতীয় পর্যায়ে সেরা তিনটি পেশাদার দল এবং সেরা তিনটি শিক্ষার্থী দলকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করা হবে, যার আর্থিক পরিমাণ পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সনদপত্র প্রদান করা হবে। এছাড়াও, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে কম সময়ে সফলভাবে সমাধানকারী দলগুলোর জন্য থাকবে বিশেষ ফার্স্ট-ব্লাড পুরস্কার ও অতিরিক্ত স্বীকৃতি। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইচ্ছুক দলগুলো নির্ধারিত ওয়েবসাইট কিংবা ডিসকর্ড চ্যানেলের মাধ্যমে খুব সহজেই নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। আয়োজকদের বিশ্বাস, এই বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবে।