
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশজুড়ে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় ষোল হাজার শিশু হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর খোঁজ মিললেও দুই হাজারের বেশি শিশু এখনও পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেনি, যা অভিভাবকদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের অবিলম্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে। এ সময় শিশুটির সাম্প্রতিক ছবি, তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য, গায়ের রং এবং সে সময় তার পরনে কী পোশাক ছিল, তার নিখুঁত বিবরণ পুলিশকে জানাতে হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পরিবারকে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে, যেমন শিশুর স্কুল, খেলার মাঠ, আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের পরিচিত এলাকাগুলোতে খোঁজ নেওয়া। অনেক সময় শিশুরা কৌতূহলবশত বা অন্য কোনো কারণে পরিচিত পরিমণ্ডলের বাইরে চলে যায়, ফলে দ্রুত খোঁজাখুঁজি শুরু করলে তাদের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহারেও এই ধরনের সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুর ছবি ও বিবরণসহ একটি নির্ভরযোগ্য বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয়। তবে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার বিষয়েও পরিবারকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখতে হবে।