
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে দেশে শিগগিরই শস্য বীমা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে যশোর জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হাতের কালি মুছার আগেই সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময় খাল খনন, উন্নতমানের সার-বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে দেশে কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কর্মসূচিগুলো নতুনভাবে বাস্তবায়ন করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, ডিজেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ধান ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের মাধ্যমে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
এ সময় স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় সরকারিভাবে ১৫ হাজার ১৬৬ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।