
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বিগত দিনে অনেকেই শুধু দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তনের মতো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু এর বিপরীতে এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সার্বিক সুযোগ-সুবিধা এবং চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। প্রতিষ্ঠানটির নাম নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা চললেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি চিকিৎসাকলেজ বা হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের যথাযথ পঠনপাঠন নিশ্চিত করা। শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের রাজনীতি করে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো আড়াল করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানের বাস্তবসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের বর্তমান অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে খুব দ্রুতই সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট মহলের দীর্ঘদিনের দাবি এবং অভিজ্ঞতার আলোকে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র বদলাতে সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক ছক আঁকতে না পারে। চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের মধ্য দিয়ে এই মেডিকেল কলেজকে দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।