
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ও ডেটা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে অত্যন্ত কম মূল্যে স্মার্টফোন সরবরাহের একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানান সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের প্রায় অর্ধেক মোবাইল গ্রাহক এখনো সাধারণ ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন, যা মোট গ্রাহকসংখ্যার তুলনায় প্রায় সাত কোটি। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডিজিটাল সেবার মূল স্রোতে যুক্ত করতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছে প্রশাসন। উন্নত টেলিকম নেটওয়ার্ক থাকলে তা ব্যবহারের উপযোগী স্মার্ট ডিভাইসও যে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা দরকার, সেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে সস্তায় অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন উপলব্ধ করতে মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের সঙ্গে ইতিমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মোবাইল ফোন তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পূর্বে উচ্চহারে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থাকলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক উপকরণের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে অথবা তা নামমাত্র দুই থেকে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই শুল্ক ছাড়ের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করে সাধারণ গ্রাহকদের হাতে ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ডেটা স্মার্টফোন তুলে দেওয়া। দেশীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারের এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে দ্রুত সাশ্রয়ী মূল্যের ডিভাইস তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
শুধু ডিভাইসের দাম কমানোই নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার পথ সুগম করতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মোবাইল ফোনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইএমআই কর্মসূচির আওতায় আনার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কিস্তি সুবিধা প্রদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করার সামর্থ্য না থাকলেও দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত স্মার্টফোনটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের সার্বিক উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। খাতটির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী টাওয়ার নেটওয়ার্কের পাশাপাশি গ্রাহকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের দিকটিও এই আয়োজনে আলোচনায় উঠে আসে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের পাশাপাশি গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার নেটওয়ার্ক সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে নেটওয়ার্ক কেবল শক্তিশালীই হয়নি, বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তির উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই আধুনিকায়নের সুফল হিসেবে গ্রাহকদের ডেটা অভিজ্ঞতা ও কল ড্রপের হার সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান এবং শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানির নির্বাহীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভাটি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।