
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও তাঁর দলের আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বর্তমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন প্রধান সড়কে কন্টেইনার বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত সাবেক এই ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও তাঁর জনসমর্থনে ভাটা পড়েনি।
দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের নাম ও ছবি সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও ক্রিকেট তারকারাও সংহতি প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাতে ইমরান খানের বোনসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বেসামরিক সরকারের জন্য কারাবন্দি এই নেতা বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটি বিশাল অংশের কাছে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতির বিকল্প হিসেবে ইমরান খান অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষকের মতে, দেশটি বর্তমানে ইমরান খানের বিপুল জনসমর্থন এবং সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার জেদের কারণে এক গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থায় আটকে আছে। একদিকে সামরিক নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে দুর্বল অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইমরান খানকে একপাশে সরিয়ে রাখার এই অনমনীয় নীতি দেশের ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল এজেন্ডা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্যও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্নমত দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিচার বিভাগের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা দেশটির সামগ্রিক গণতান্ত্রিক চর্চাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে।