1. Md12pl@gmail.com : News Admin News Admin : News Admin News Admin
  2. info@www.choice24.tv : NEWS TV : NEWS TV
  3. info@www.choice24.tv : TV :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

বোমা হামলা থেকে জাতিসংঘে, কূটনীতির নতুন অধ্যায়ে ইরান

চয়েজ টিভি নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর সুরক্ষাবলয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন সমবেত হয়েছেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের দেশের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার মুখে ইরানের নেতৃত্বের টিকে থাকা নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হলেও, বর্তমান দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় মহলের কথা মাথায় রেখেই তেহরানের নীতিনির্ধকারকেরা অত্যন্ত সুকৌশলে এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের দশটির বেশি দেশের প্রতিনিধি সহ প্রায় দুই ডজন বিদেশি কূটনীতিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এমনকি যে জর্ডানের ভূখণ্ডে সম্প্রতি ইরান হামলা চালিয়েছিল, সেই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সঙ্গেও তিনি আলোচনায় অংশ নেন। তবে এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আরাগচির সরাসরি বৈঠক। দীর্ঘ তিন মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে তেহরান। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করলে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবে এবং একটি স্থায়ী সমঝোতার পথে এগোবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই কারো কাছে মাথা নত করবে না। তার এই দৃঢ় অবস্থান দেশের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থীদের একাংশের কাছে প্রশংসিত হলেও, সার্বিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে তারা তীব্র সমালোচনাও করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে দেশটির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্তকে দেশের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের অনেকে এক ধরনের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। যুদ্ধকালীন নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে যখন ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যস্ত, তখন শত্রুপক্ষের দেশে গিয়ে এই ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি প্রতিনিধিদল বিশ্ববাসীর কাছে টিকে থাকার বার্তা পৌঁছে দিতে এবং আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত করতে সফল হয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে পেজেশকিয়ান যখন ইরানের বিভিন্ন দাবি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছিলেন, তখন এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে। নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিতে শুরু করেন, তখন নিউ ইয়র্কের রাস্তায় তার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ হয় এবং অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত বহু দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদস্বরূপ ওয়াকআউট করেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের ঘনঘটা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ইরানের এই যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন এবং উল্লেখযোগ্য মোড় নিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
স্বত্ব: চৌকস মাল্টিমিডিয়া (লাইসেন্স নং-সি-২০৫৭১৫/২০২৫)  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © choice24.tv    
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট