
নরসিংদী সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বিভিন্ন ফি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অন্তত ২৪ ধরনের ফি আদায় করা হয়। কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত থেকেই বছরে প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হচ্ছে, যা চার বছরে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবস্থাপনা ও বিবিধ ফি বাবদ বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় হলেও এর ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। কার্যকর ছাত্র সংসদ না থাকলেও ছাত্র সংসদ ফি হিসেবে বছরে প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। দৃশ্যমান চিকিৎসা সুবিধা না থাকলেও চিকিৎসা ফি বাবদ বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা সরকার বহন করলেও ‘অত্যাবশ্যকীয় কর্মচারী ফি’ নামে বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং পরিবহন সুবিধা না থাকলেও পরিবহন ফি হিসেবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন ফি হিসেবে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম না থাকার দাবি শিক্ষার্থীদের একাংশের।
২০২১ সালের ৯ আগস্ট অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন মোশতাক আহমেদ ভূঁইয়া। তার দায়িত্বকালেই এসব অর্থ আদায় ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজের ক্যাশিয়ার আব্দুল আল মামুনের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।