
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: খুলনা ও আশেপাশের জেলাগুলোতে তামাকবিরোধী আইনকে উপেক্ষা করে অবৈধ সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান British American Tobacco–এর ‘লাক ইস’ ব্র্যান্ডকে ঘিরে। অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে লাল্টু নামে একজনের নাম।
সূত্র জানায়, লাল্টু স্থানীয় উঠতি বয়স্ক ছেলেদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তায় নামিয়ে সিগারেটের ব্র্যান্ডিং প্রচারণা করাচ্ছেন। এই প্রচারণার জন্য কোম্পানির মোবাইল ট্যাব ব্যবহার করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হত।
সম্প্রতি নগরীর শিববাড়ি মোড় এলাকায় ‘রিলাক্স ক্যাফিন’ রুফটপে গোপন সেমিনারের মাধ্যমে প্রায় ২০ জন কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে এই প্রচারণা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সুপারভাইজার ইউনুস আলী ও কর্মচারী সাকিব শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্র্যান্ড লোগোযুক্ত জার্সি, মানিব্যাগ ও উপহার সামগ্রী ব্যবহার করে সিগারেটের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশে কার্যকর Smoking and Tobacco Products (Control) Act, 2005 এবং ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি জারি 2025 সালের সংশোধনী অনুযায়ী রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশ, অনলাইন বা সরাসরি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্র্যান্ড প্রচারণা করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় উঠতি বয়সীদের টার্গেট করে বিনামূল্যে সিগারেট ও আকর্ষণীয় উপহার দিয়ে ব্র্যান্ড প্রমোশন চালানো হচ্ছিল। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধূমপানের ঝুঁকিতে ফেলার একটি সুসংগঠিত কৌশল।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও অভিযান ও জরিমানা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, জরিমানা সত্ত্বেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
জনস্বাস্থ্যকর্মী ও সচেতন মহল দাবি করছেন, অবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে তরুণ সমাজ ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হবে। প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারবে, তা এখন নজর রাখার বিষয়।