
মাদারীপুরে সদ্য নির্মিত একটি সড়ক আবারও ভেঙে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করায় সড়ক বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহার উপযোগী নতুন রাস্তার ওপর পুনরায় কাজ করায় সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে নতুন করে পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয়ে মাদারীপুর সদর থেকে মস্তফাপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক পূর্ণাঙ্গ নির্মাণের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির টেন্ডার আইডি নম্বর ১১৭৬২৯১। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) কাজটি পায়। মাদারীপুর সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বেশিরভাগ অংশ এখনও ভালো অবস্থায় থাকলেও পুরো রাস্তা ভেঙে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ কাজী বলেন, “রাস্তা তো এখনও ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পুরো রাস্তা ভেঙে আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”
স্থানীয় টিপু সুলতান ও হানিফ খান বলেন, “মাদারীপুর সড়ক বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।”
এদিকে পুনর্নির্মাণ কাজের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করা পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ধুলাবালি ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, “আমি এখন বাইরে আছি। বিস্তারিত জানতে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলুন।” তবে সংশ্লিষ্ট সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কাজ শেষ করা হোক।