
মাদারীপুরের শিবচরে গৃহবধূ শম্পা খাতুন ও তাঁর এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবির হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অভিযুক্ত ফারুক মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের ভেলি ব্রিজ বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তি, দ্রুত বিচার এবং নিখোঁজ শিশু আবিরের লাশ দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। এ সময় ‘ফারুকের ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তারা বলেন, শম্পা খাতুন ও তাঁর শিশুপুত্রের সঙ্গে যে নৃশংসতা করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশু আবিরকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিবচরের মাদবরেরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, ওই নারী নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা শম্পা খাতুন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আদালতে একটি মামলার সূত্র ধরে শম্পা খাতুনের সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়। পুলিশের অভিযোগ, ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক শম্পাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
পুলিশের দাবি, শম্পার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকেও হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিহত শম্পা খাতুনের বাবা সামরুল ইসলাম শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ও র্যাব-৮ প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ফারুকের বাসা থেকে নিহত শম্পা খাতুনের স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, জুতা ও আংশিক পোড়া একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদারীপুরের শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে ফারুকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ শিশু আবিরের মরদেহ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।