1. Md12pl@gmail.com : News Admin News Admin : News Admin News Admin
  2. info@www.choice24.tv : NEWS TV : NEWS TV
  3. info@www.choice24.tv : TV :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

ন্যাটো সদস্য দেশে কয়েক মাসের মধ্যেই হামলা চালাতে পারে রাশিয়া: ডেনমার্ক

চয়েজ টিভি নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রে সীমিত আকারের সামরিক আগ্রাসন চালাতে পারে মস্কো। সম্প্রতি প্রকাশিত ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডেনমার্কের গোয়েন্দারা মনে করছেন, ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে দূরপাল্লার হামলা কিংবা প্রতিবেশী দেশগুলোতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ছোট দল নিয়ে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। পরিচয়চিহ্নহীন এসব সেনা দল যেকোনো সময় আকস্মিক অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেনমার্কের এই সতর্কবার্তা প্রকাশের ঠিক আগে পোল্যান্ডের মাজোভিয়া অঞ্চলে অবস্থিত একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্টেশনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে একে একটি পরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রজিসতোফ গাওকোভস্কি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্টেশনটি ইচ্ছাকৃতভাবে অচল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এই নাশকতার ফলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। যদিও এই ঘটনার পেছনে সরাসরি কার হাত রয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ইউরোপজুড়ে চলমান হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশলের সঙ্গে এর গভীর মিল রয়েছে বলে মনে করছেন পোলিশ কর্মকর্তারা।

ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক নাশকতার ঘটনার সঙ্গেও রুশ সংযোগের সন্দেহ করা হচ্ছে। এর আগে জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টা, বিভিন্ন স্থানে ড্রোন কারখানা এবং রেলওয়ে অবকাঠামোতে অগ্নিকাণ্ডের মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছিল। যদিও মস্কো বরাবরই এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে, তবুও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইউরোপের সংবেদনশীল অবকাঠামোতে নাশকতা আরও বাড়তে পারে। ডেনমার্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনে সাইবার হামলা এবং প্রাণঘাতী নাশকতার মাধ্যমে ইউরোপের সামাজিক জীবনযাত্রা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাতে পারে রাশিয়া।

রুশ এ ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনীয় সংকটের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও আর্থিক মনোযোগ ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। এছাড়া ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করা এবং যৌথ প্রতিক্রিয়া দেখানোর সক্ষমতা পরীক্ষা করাও মস্কোর অন্যতম লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন চালানোর সম্ভাবনা এখনো বেশ কম। তা সত্ত্বেও, ন্যাটো সনদের আর্টিকেল ৫ এর সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার কতটা শক্তিশালী, তা যাচাই করতে মস্কো ছোটখাটো সামরিক উসকানি চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর এই সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতির অন্দরেও নানামুখী সংশয় তৈরি হয়েছে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিৎসো সম্প্রতি ন্যাটো সনদের পঞ্চম ধারা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং নিজ দেশকে কোনো অনাবশ্যক সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন যে রাশিয়া কেবল ইউক্রেন নয়, বরং মলদোভা, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবাধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যই আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
স্বত্ব: চৌকস মাল্টিমিডিয়া (লাইসেন্স নং-সি-২০৫৭১৫/২০২৫)  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © choice24.tv    
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট